
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রাণ হারালেন দুই ভারতীয় নাবিক। গত ১ মার্চ ওমানের খাসাব বন্দরের অদূরে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি মিসাইল হামলায় ডুবে যায় ‘এমভি স্কাইলাইট’ নামক তেলের ট্যাঙ্কার। ওই ঘটনায় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং দিলীপ সিং-এর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে গত ১ মার্চ ওমানের মুসান্দাম গভর্নরেট থেকে মাত্র ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউ-এর পতাকাবাহী ওই জাহাজটিতে হামলা চালায় ইরান। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানি গোলার আঘাতে জাহাজটিতে বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। জাহাজে থাকা ২০ জন ক্রু মেম্বারের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন ভারতীয়। প্রাথমিকভাবে সকলকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হলেও, পরে জানা যায় দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ। তিন দিন পর তাঁদের মৃত্যুর খবর আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত ক্যাপ্টেন আশিস কুমার বিহারের বাসিন্দা এবং দিলীপ সিং রাজস্থানের নাগৌর জেলার অধিবাসী ছিলেন। জানা গিয়েছে, হামলার সময় আশিস এবং দিলীপ জাহাজের ইঞ্জিন রুমে কাজ করছিলেন। মিসাইলটি সরাসরি ইঞ্জিন রুমে আঘাত করায় সেখানে ভয়াবহ আগুন লেগে যায় এবং তাঁরা ভেতরেই আটকে পড়েন। আশিসের পরিবার জানায়, গত তিন দিন ধরে তাঁরা আশিসের বেঁচে থাকার প্রার্থনা করছিলেন, কিন্তু তারপর তাঁদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছয়।
এই ঘটনার সবথেকে চাঞ্চল্যকর দিক হল, যে জাহাজটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে সেটি আদতে ইরানের নিজস্ব ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ ছিল বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপনে তেল সরবরাহের জন্য এই ধরনের জাহাজ ব্যবহার করে তেহরান। গত ডিসেম্বর মাসেই মার্কিন প্রশাসন এই ‘এমভি স্কাইলাইট’ জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের উত্তেজনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বা ভুলবশত নিজেদের নেটওয়ার্কের জাহাজেই হামলা চালিয়েছে ইরান, যার চড়া মূল্য দিতে হল দুই নিরপরাধ ভারতীয়কে। বর্তমানে জাহাজটির বাকি ১৮ জন ক্রু মেম্বারকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
