
মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে সর্বদা স্পর্শকাতর। বিশেষ করে মতুয়া মহাসঙ্ঘের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ভারতীয় নির্বাচনী তালিকায় (SIR) এবার প্রকাশিত হয়েছে, অধিকাংশ মতুয়ার নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায়। বসিরহাট, নদিয়া, রানাঘাট ও বনগাঁ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অসংখ্য মতুয়ারা বড় ফ্যাক্টর। বনগাঁ, রানাঘাট, বারাসত এবং গাইঘাটা মতুয়ার ভোটের গুরুত্ব অতুলনীয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বড়মা’ বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে সামাজিক মাধ্যমে বিজেপিকে নিশানা করে লিখেছেন, “নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করাচ্ছে। অন্যায় মানব না। লড়াই চলবে।” এই পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, বিজেপির ছক-বাঁধা পরিস্থিতিতে মতুয়ারা বিভ্রান্ত হচ্ছে, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনৈতিক খেলা হচ্ছে।
২০১৯ সালে কেন্দ্র সরকার ‘Citizenship Amendment Act’ (CAA) পাশ করেছিল। এই আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করে, এই আইনের ফলে মতুয়া শরণার্থীরা সহজে নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান অনুযায়ী, মতুয়ারা ইতিমধ্যেই ভারতের নাগরিক; নতুনভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। CAA–র মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, “তৃণমূলের ভয় দেখানোতে অনেকে ফর্ম ফিলাপ করেননি। স্বাস্থ্য সাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হওয়ার ভয়ে মানুষ পিছিয়ে রইল। এখন সবাই শেষ মুহূর্তে দৌড়াচ্ছে।” তবে এই পরিস্থিতিতে মতুয়ারা এখনও অধরা। তাদের কাছে প্রশ্ন, নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট কবে আসবে? ভোট দিতে পারবে কি? নির্বাচনের ঘোষণার আগে নাগরিকত্ব নিশ্চিত হবে কি না, সবাই এই প্রশ্নের মুখোমুখি।
রাজনৈতিক মহলে বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচন পূর্ববর্তী SIR প্রকাশের কারণে মতুয়ারা আরও অনিশ্চয়তায়। বনগাঁ, বারাসত, রানাঘাটে মতুয়ারা ভোটের মূল ভিত্তি। তাই রাজনৈতিক দলগুলির জন্য এই সম্প্রদায়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মমতার পোস্ট স্পষ্ট করে দিল, তৃণমূল এবার নাগরিকত্বের বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দৃঢ়।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে ‘বড়মা’কে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং দলীয় সমর্থকদের সতর্ক করেছেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।” মতুয়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা, নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক খেলার বাইরে রাখা, এবারের রাজনীতির মূল ইস্যু।
এই পরিস্থিতি দেখেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, SIR-এর ফলে মতুয়ারা অনিশ্চয়তার মধ্যে, এবং এর প্রভাব নির্বাচনে বড় ভুমিকা রাখতে পারে।
