
রাজ্যসভা নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তা রাজীব কুমারকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য “রাজনৈতিক ব্লান্ডার” প্রমাণিত হতে পারে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে রাজ্যসভায় অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাঠাচ্ছেন, তাতে দলের কোনও বাস্তব রাজনৈতিক লাভ হবে না। তাঁর মতে, দলের বহু কর্মী ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতাকে উপেক্ষা করে কয়েকজনকে ‘পুরস্কার’ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজীব কুমারকে প্রার্থী করা আসলে তাঁকে পুরস্কৃত করারই একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে তিনি সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির কথাও তুলে ধরেন। হুমায়ুনের দাবি, যখন সারদা কাণ্ডে অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনকে লাদাখ থেকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছিল, তখন রাজীব কুমার কী ভূমিকা নিয়েছিলেন তা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন, রাজীব কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ভুল হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এসে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন রাজীব কুমার। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মাদারের একটি কথা আছে আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর আমাকে এমন কোনও দায়িত্ব দেবেন না, যা আমি সামলাতে পারব না। তিনি যেন আমাকে এতটা বিশ্বাস না করেন।”
রাজনীতির অন্দরে এখন প্রশ্ন উঠছে, অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত তৃণমূলের জন্য কতটা লাভজনক হবে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে।
