
ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে শান্তি ও কূটনীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনও সমস্যার সমাধানই সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের মাধ্যমে সম্ভব নয়। ভারত বরাবরই আইনের শাসন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোয় বিশ্বাসী।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাত যখন চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত এবং ফিনল্যান্ড উভয় দেশই আইনের শাসন, সংলাপ এবং কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া শুধুমাত্র সামরিক সংঘাত কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। আমরা দুজনেই একমত যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে ভারত এবং ইউরোপের সম্পর্ক এক ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করছে, যা বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে নতুন শক্তি জোগাবে।
সম্প্রতি ভারতের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ মিসাইল হামলার শিকার হয়। এই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইরান দাবি করেছিল, জাহাজটি ভারতের আমন্ত্রণে সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে এসেছিল। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, গত ১৬ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ’ (IFR)-এ যোগ দিতে জাহাজটি ভারতে এসেছিল। অর্থাৎ, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তই জাহাজটি ভারতের অতিথি ছিল। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা সংঘাত শুরু হয় এবং গত বুধবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কা উপকূলে জাহাজটি আক্রান্ত হয়। ভারত জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর জাহাজটির পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে কোনও সাহায্য চাওয়া হয়নি।
এদিনের বৈঠকে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) প্রসঙ্গও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির আদান-প্রদানে ফিনল্যান্ড ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
