
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যপালের আকস্মিক পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, নির্ধারিত সময়েই কি নির্বাচন সম্ভব, নাকি বাংলায় জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন?
আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। অর্থাৎ সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। কিন্তু হাতে সময় খুবই কম। নির্বাচন কমিশনকে খুব দ্রুত ভোটের দিন ঘোষণা করতে হবে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে ভোটার তালিকা যাচাই সংক্রান্ত বড় সঙ্কট।
সূত্রের খবর, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ভোটারের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বাকি প্রায় ৫৪ লক্ষ ভোটারের নথি পরীক্ষা করতে কত সময় লাগবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ করলেও এত বিপুল সংখ্যক নথি দ্রুত যাচাই করা কার্যত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে না। আর চূড়ান্ত তালিকা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করাও প্রায় অসম্ভব। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন আশঙ্কা।
এরই মধ্যে রাজ্যের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেছেন। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয় এবং তার পরেই তিনি ইস্তফা দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট থেকে জানা যায়, নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন আর এন রবি। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
অনেকের মতে, এমন একটি জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে এমন একজন রাজ্যপাল প্রয়োজন যাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্যপাল পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন, বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের পক্ষে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মন্তব্য আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়ার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কেয়ারটেকার সরকার অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাতে পারে।
নির্বাচন, ভোটার তালিকা এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ। আগামী কয়েক সপ্তাহেই পরিষ্কার হবে রাজ্যে নির্ধারিত সময়েই ভোট হবে, নাকি নতুন কোনও সাংবিধানিক পথ বেছে নিতে হবে।
