
মধ্যপ্রাচ্যে ঘভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। সূত্রের খবর, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা চালু রাখবে। শুক্রবার সকালে সরকারি আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা সফল হয়েছে এবং বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আশ্বস্ত করা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোপণ্য বা জ্বালানির দাম বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ‘একাধিক স্তরে নিরন্তর আলোচনার’ ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের বাজারে তার প্রভাব পড়তে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে উত্তপ্ত। ইরান এই জলপথ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ায় এবং ওমান উপকূলে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন কার্যত থমকে গিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ভারতের ক্ষেত্রে এই সংকট অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, ভারত প্রতিদিন প্রায় ৬০ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তবে সরকার জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুদ্ধের প্রভাব পড়লেও ভারতের কাছে পর্যাপ্ত আপৎকালীন মজুত রয়েছে, যা যেকোনও বড় বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম।
ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া শুল্ক চুক্তিতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমানোর শর্ত থাকলেও, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবস্থান পরিবর্তন করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ৩ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত ভারতীয় রিফাইনারিগুলোর জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছেন। এর ফলে মার্কিন ‘পেনাল্টি শুল্ক’ এড়িয়েই ভারত আপাতত রুশ তেল সংগ্রহ করতে পারবে।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার জেরে সৌদি আরবের রাস তনুরা এবং ইরাকের রুমাইলা তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তেল উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। গত মাসে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সংসদে জানিয়েছিলেন যে, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং ওড়িশার ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার এবং তেল কোম্পানিগুলোর মজুত মিলিয়ে ভারতের কাছে প্রায় ৭৪ থেকে ৯০ দিনের ব্যবহারযোগ্য তেল মজুত রয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে। যদিও চিনের কাছে প্রায় ৬ মাসের তেল মজুত রয়েছে, ভারতের প্রস্তুতিও এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
