
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হারে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ আগেই উঠেছে। এবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার ধরনায় বসতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ২টো থেকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে তিনি অবস্থান নেবেন। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ধর্মতলা চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ও সাজসাজ রব।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দলীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমিধ্যেই ৬৩ লক্ষের বেশি নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে এবং আরও ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই বিষয়কে অগণতান্ত্রিক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছে শাসক দল।
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডোরিনা ক্রসিংয়ে এই ধরনা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন সেইসব সাধারণ মানুষ এবং ভুক্তভোগী ভোটাররা, যাঁদের নাম সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে। এর আগে এই বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় এবার রাজপথকেই প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবারই এই ধরনা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “মানুষই যদি ভোট দিতে না পারে, তা হলে কীসের ভোট? ইআরও-রা ফাইনাল করার পরও দিল্লির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও দরজা নেই যেখানে গিয়ে ঠক ঠক করিনি। নির্বাচন কমিশন থেকে সুপ্রিম কোর্ট সর্বত্র গিয়েছি। কিন্তু এখনও বহু নাম বাদ। এর বিরুদ্ধেই বাংলার মানুষের ভোটরক্ষার স্বার্থে শুক্রবার থেকে রাস্তায় বসছি। সব জগতের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ুন। প্রতিবাদ করুন। এটা বাংলার সম্মানের প্রশ্ন। দেখি, কত ধানে কত চাল।”
