
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হঠাৎ বড় পরিবর্তন। রাতারাতি বদলে গেল রাজ্যের রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল C. V. Ananda Bose। তার পরই দেশের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে একটি নাম নতুন রাজ্যপাল হিসেবে ঘোষণা করা হয় R. N. Ravi-র। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় একাধিক বিতর্ক ও সংঘাতের কারণে তিনি বারবার শিরোনামে এসেছিলেন। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী M. K. Stalin-এর সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
২০২১ সালে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আর এন রবি। সেই সময় থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হতে থাকে। অভিযোগ ওঠে, তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল তিনি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছিলেন। রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, প্রায় তিন বছর ধরে রাজভবনে ১২টিরও বেশি বিল আটকে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি সংশোধনী বিল, মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি সংশোধনী বিল এবং তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনও ছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ু সরকার সরাসরি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে ২০২৩ সালে রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে Supreme Court of India-এর দ্বারস্থ হয়। আদালতে মামলার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।
২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজ্যপাল আর এন রবির ১০টি বিল আটকে রাখা ‘অবৈধ’ এবং ‘স্বেচ্ছাচারী’। আদালত মন্তব্য করে, রাজ্যপালদের যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই রায়কে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে দাবি করেছিলেন।
শুধু বিল ইস্যুই নয়, আরও নানা কারণে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে রাজ্যপালদের সম্মেলনে আর এন রবি একটি প্রস্তাব দেন দেশের সব ‘রাজভবন’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লোক ভবন’ করা হোক। তাঁর মতে, ‘রাজভবন’ নামটি ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতীক। কিন্তু এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন স্ট্যালিন।
এছাড়াও ‘তামিলনাড়ু’ নাম বদলে ‘তামিজগম’ করার পরামর্শ দিয়েও বিতর্কে জড়ান তিনি। ডিএমকে সরকার এটিকে রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করে।
তামিলনাড়ুতে দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস থাকা সেই আর এন রবি এখন পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে বাংলাতেও কি আবার রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে?
