
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এই দুই নামকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগ যেন আলাদা এক যুদ্ধ। কিন্তু হোয়াইট হাউসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হঠাৎই সেই চিরচেনা তুলনার প্রসঙ্গ তুলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাতেই কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
সম্প্রতি এমএলএস কাপ জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিল ইন্টার মায়ামি দল। সেই দলের সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন লিওনেল মেসি। ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ ফাইনালে ভ্যাঙ্কুভার এফসিকে ৩–১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে ইন্টার মায়ামি। এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মেসি নিজে। ম্যাচে তিনি দুটি অ্যাসিস্ট করেন এবং দলকে প্রথমবারের মতো এমএলএসের শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রাখেন।
এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্যই পুরো দলকে সংবর্ধনা জানাতে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেসির প্রশংসা করতে শুরু করেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ব্যারন ট্রাম্প মেসির বড় ভক্ত।
ট্রাম্প বলেন, “আমার ছেলে ব্যারন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আজ কে আসছে আমি জানি কি না। আমি বলেছিলাম জানি না। তখন সে বলল মেসি আসছে। ব্যারন মেসির বিশাল ভক্ত।”
কিন্তু এখানেই থামেননি ট্রাম্প। হঠাৎই মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম টেনে আনেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “মেসি ছাড়া আরও একজন বড় খেলোয়াড় আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তোমরা দুজনেই প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন। তোমরা জানো কীভাবে নিজের কাজ করতে হয়।”
এই মন্তব্যের সময় মেসির মুখে হালকা অস্বস্তির ছাপ দেখা যায় বলেই দাবি অনেকের। যদিও তিনি হাসিমুখেই পরিস্থিতি সামলে নেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিও।
বিশেষ করে মেসি ভক্তদের একাংশ এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের মতে, ইন্টার মায়ামির ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের অনুষ্ঠানে রোনাল্ডোর প্রসঙ্গ তোলা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক ছিল। অনেকে আবার ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অপ্রয়োজনীয় তুলনা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে কিছু সমর্থকের মতে, ট্রাম্প আসলে দুই তারকারই প্রশংসা করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি মেসি ও রোনাল্ডো, দুজনকেই ফুটবল বিশ্বের প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের এই ছোট্ট মুহূর্তই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনার বিষয়। ফুটবল দুনিয়ার চিরন্তন বিতর্ক, মেসি না রোনাল্ডো, আবারও যেন নতুন করে সামনে এনে দিল ট্রাম্পের একটি মন্তব্য।
