
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা এবং ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ফের সুপ্রীম কোর্টে (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছে। সোমবার রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswami) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন যে, বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় নথি গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতি মঙ্গলবার আদালতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ধর্নার সময় মেনকা গুরুস্বামী ভোটাধিকারের লড়াইয়ের কথা প্রকাশ করেছিলেন। আজ ধর্নার চতুর্থ দিনে তিনি পুনরায় শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন, তাদের নথি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন যাতে এই সমস্যাটি মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, বর্তমানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এবং এভাবে আদালতের বাইরেও আবেদন করা যাবে না। এছাড়া তিনি মন্তব্য করেন, “পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আমাদের আরও কাজ আছে।”
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সমস্যা রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে। একই সময়ে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের (EC) ফুল বেঞ্চ বৈঠক চলছে। কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে যে, ভোটের সময় কোনো হিংসার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই দায়বদ্ধ হবেন।
ধর্মতলায় মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের উপর অযথা চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ভোটের পর বাস্তব পরিস্থিতি প্রকাশ পাবে এবং কেউই সর্বশক্তিমান হয়ে আচরণ করতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, “সাহস থাকা ভাল, কিন্তু দুঃসাহস নয়। মে মাসের পর চেয়ার থাকবে তো?” এটি পরিষ্কার ইঙ্গিত যে ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে প্রশাসনকে দায়ভার নিতে হবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের শীঘ্রই হওয়া শুনানি ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে। ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই লড়াই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
