
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনকে কার্যত কড়া সতর্কবার্তা দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার কলকাতায় এসে রাজ্যের জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—ভোটে কোনও ধরনের হিংসা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক শেষ করার পর নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকেই কার্যত ‘ক্লাস’ নেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যে এত হিংসা দেখা যায় না। কিন্তু বাংলায় ভোট এলেই কেন অশান্তি বাড়ে? সব রাজনৈতিক দলই আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এবার এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া হবে না।”
জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক। সেই কারণেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সরাসরি বার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “জেলাশাসক হন বা পুলিশ কমিশনার, দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি দেখা গেলে রেয়াত নেই। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ পালাতে পারবেন না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের আগে ও পরে যদি কোনও ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটে, তাও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এমনকি নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ এলেও কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।
এদিনের বৈঠকে বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ঠিকভাবে মানা হয়নি। এই বিষয়েও আধিকারিকদের সতর্ক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলিও কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছে। বৈঠকে বিজেপির পক্ষ থেকে মোট ১৬ দফা দাবিপত্র পেশ করা হয়। দলের তরফে বাংলায় নির্বাচনকালীন হিংসা, কারচুপি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কমিশনের কাছে ভয়মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার করারও আবেদন করেছি।”
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার আবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক তখনই প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, কমিশনের এই কড়া অবস্থানের পর রাজ্যে ভোটপর্ব কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
