
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতায় পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সোমবার সকাল থেকেই সেই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন এবং সেখানে ১৬ দফা দাবি পেশ করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার, শিশির বাজোরিয়া এবং তাপস রায়। প্রায় ৩০ মিনিটের এই বৈঠকে বাংলার নির্বাচন ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
বৈঠকের পর বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার জানান, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি বদলাতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিজেপির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাঁদের মতে, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে ভোটাররা আরও নিরাপদ বোধ করবেন এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি রাজ্যে সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করার দাবিও জানানো হয়েছে।
এছাড়াও বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনও সরকারি কর্মচারী বা পুলিশ আধিকারিক নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে মত বিজেপি নেতৃত্বের।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল ভোটগ্রহণের ধাপ কমানো। বিজেপির মতে, সাত বা আট দফায় ভোট করানোর পরিবর্তে এক বা দুই দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করা উচিত। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে এবং প্রশাসনিক চাপও কমবে।
এদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর ইস্যুতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে চলা অবস্থান-বিক্ষোভও রাজ্য রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সোমবার সেই আন্দোলনের চতুর্থ দিন। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরোধিতা করেই এই আন্দোলন চলছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের ফুল বেঞ্চের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য শোনার পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ। ফলে কলকাতা থেকে দিল্লি সব জায়গাতেই এখন নজর রয়েছে এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে।
