
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)–এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান বর্তমানে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে চিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে চিন থেকে, যা দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার গভীরতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
SIPRI–এর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০১৬-২০ সালের সময়কালে পাকিস্তান ছিল দশম স্থানে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে তাদের অস্ত্র আমদানি প্রায় ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৪.২ শতাংশ।
চিন বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নির্ভরতা আরও বেড়েছে। ২০১৬-২০ সালে পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির ৭৩ শতাংশ চিন থেকে এলেও, ২০২১-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশে। অন্যদিকে, চিন যদিও বিশ্বের মোট ৪৭টি দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে, তবুও তাদের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৬১ শতাংশই যায় একমাত্র পাকিস্তানে। ফলে সামরিক দিক থেকে এই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টে ভারতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির প্রায় ৮.২ শতাংশই করেছে ভারত। তবে গত এক দশকে ভারতের অস্ত্র আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলেও জানিয়েছে SIPRI।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয়ভাবে যুদ্ধবিমান, মিসাইল ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করার দিকে জোর দিচ্ছে ভারত সরকার। যদিও অনেক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনে সময় বেশি লাগছে, তবুও ধীরে ধীরে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে।
তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিদেশি সরবরাহকারীর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে ভারতকে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্স থেকে ১৪০টি যুদ্ধবিমান এবং জার্মানি থেকে ৬টি সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে রিপোর্টটি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাই ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিকে প্রভাবিত করছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক প্রতিযোগিতা আগামী দিনেও আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
