
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে আবারও বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। সোমবার বাজার খুলতেই মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম নেমে গেল সর্বকালীন সর্বনিম্ন স্তরে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৩ টাকা। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। গত কয়েকদিন ধরে সেই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৭ মার্কিন ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে ভারতসহ তেল আমদানিকারী দেশগুলির উপর চাপ বাড়ছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারী দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের অর্থনীতির উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। তেল আমদানি করতে বেশি ডলার খরচ করতে হয়। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং স্বাভাবিকভাবেই টাকার দাম কমতে শুরু করে। সোমবার সেই চিত্রই স্পষ্টভাবে দেখা গেল।
তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এক মার্কিন ডলারের দাম ছিল প্রায় ৯২.৩০ টাকা। কিন্তু সোমবার বাজার খুলতেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২.৩৩ টাকায়। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় মুদ্রার আরও পতন হয়েছে। এর আগেও ৪ মার্চ টাকার দাম প্রায় ৯২.১৭ টাকায় পৌঁছেছিল, যা তখনও উল্লেখযোগ্য পতন হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সেই রেকর্ডও ভেঙে নতুন নিম্নস্তরে পৌঁছল টাকা।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। সোমবার বাজার খোলার পরই সেনসেক্সে বড় ধস নামে। সূচক ২৩০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায় এবং সেনসেক্স নেমে আসে ৭৭ হাজারের নীচে। একইভাবে নিফটি-৫০ সূচকও প্রায় ২.৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৭৪৩ পয়েন্টের নীচে নেমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। তেলের দাম বাড়তে থাকলে দেশে জ্বালানির দামও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহণ, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপর। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির দিকে ইতিমধ্যেই নজর রেখেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এবং ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন হলে বাজারে হস্তক্ষেপও করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তবে আপাতত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কী দিকে যায়, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে।
