
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তাপমাত্রা যখন ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় রাজ্যে এসে সর্বদলীয় বৈঠক করল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার কলকাতায় জাতীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠকে মোট সাতটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে প্রধান বিরোধী বিজেপি, পাশাপাশি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস, সব পক্ষই নিজেদের দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেছে কমিশনের সামনে।
নির্বাচনের আগে এই ধরনের সর্বদলীয় বৈঠক নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ভোটকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলির মতামত ও উদ্বেগ জানতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কমিশনের ফুল বেঞ্চ এদিন প্রতিটি দলের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করে এবং তাদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনে।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও কিছু রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিনের বৈঠকে অন্যতম বড় বিষয় ছিল ভোটের ধাপ নিয়ে আলোচনা। বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাংলায় দু’দফায় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বলে কমিশনের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভোট দু’দফায় হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন। বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বৈঠকে মোট ১৬ দফা দাবিপত্র পেশ করা হয়। সেই দাবিগুলির মধ্যে ছিল রাজ্যে ভয়মুক্ত নির্বাচন আয়োজন, ভোটের সময় পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজনৈতিক দলগুলিকে আশ্বস্ত করে বলেন, “কমিশন বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করব।” অর্থাৎ নির্বাচনকালীন হিংসা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন।
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এখনও চলবে। কারও নাম যুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের জন্য ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ এখনও রয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ভোট কত দফায় হবে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কতটা মোতায়েন হবে, এই সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
