
কলকাতা: হঠাৎ পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ইস্তফার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামছেই না। সোমবার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বোস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, “আমি চাপে পড়ে পদত্যাগ করেছি কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করব না। তবে আমার প্রেসার সম্পর্কে জানতে ডাক্তারকে ফোন করেছিলাম, উনি জানিয়েছেন সব কিছু নর্মাল।”
পদত্যাগের পর বোস বাংলার মানুষের প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমি বারবার বাংলায় ফিরে আসব, বাংলার মানুষের সঙ্গে কথা বলব এবং দেখা করব। কেরলের সঙ্গে বাংলাকেও আমি নিজের ঘর মনে করি। আমি বাংলাকে ভালোবাসি।” বোসের এই উক্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বোসের সম্পর্ক ছিল শুরু থেকেই সুসম্পর্কপূর্ণ। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে নবান্ন ও লোকভবনের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। পদত্যাগের আগের সময় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লেখ করেন, “অভিমানে লোকভবনে যাননি প্রাক্তন রাজ্যপাল।” এই প্রসঙ্গে বোস জানান, তিনি মানুষের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন, তাই বর্তমানে অন্য স্থানে আছেন।
ইস্তফার আগের দিন বোস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও আছেন। বোস বলেন, “অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কথা বলছেন। আমি ভালো স্মৃতি নিয়ে বাংলা থেকে যেতে চাই।”
প্রাক্তন রাজ্যপালের পদত্যাগ রাজনৈতিক চাপে হয়েছে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। অন্যদিকে, বোসের নিজের বক্তব্য এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কই নতুন দিক নির্দেশ করছে। বাংলার রাজনীতিতে এই পদত্যাগ এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বোসের পদত্যাগ এবং তার প্রকাশিত বক্তব্য বাংলার রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় এবং কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। মানুষ জানতে চাইছে, এই পদত্যাগ কি শুধু ব্যক্তিগত কারণে, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় রাজনৈতিক খেলা।
