
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (SIR) ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ল সোমবার। কলকাতায় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-এর সঙ্গে তৃণমূল প্রতিনিধিদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে তৃণমূল নেতারা দাবি করেন, তাঁদের কথা শোনার বদলে উল্টে চিৎকার করেছেন কমিশনার। অন্যদিকে কমিশনের তরফে সরাসরি কিছু না বলা হলেও, বৈঠকের পরিবেশ যে উত্তপ্ত হয়েছিল তা স্পষ্ট।
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা চলছে Supreme Court of India-এ। এই বিষয়টি নিয়েই বৈঠকে বারবার প্রসঙ্গ তোলেন জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের দাবি, তিনি নাকি বৈঠকের মাঝেই বলেন, “আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন, এখন আবার আমার কাছে প্রশ্ন করছেন কেন?” এই মন্তব্য ঘিরেই বৈঠকে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী Firhad Hakim এবং Chandrima Bhattacharya। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, তাঁদের বক্তব্য ঠিকমতো শোনার কোনও চেষ্টা করা হয়নি। বরং সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার প্রসঙ্গ তুলে বারবার তাঁদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয়েছে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কথায়, “আমাকে বলা হয়েছে, আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আমি বলেছি, অবশ্যই গিয়েছি। কেন যাব না? মানুষের স্বার্থে গিয়েছি, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আছে। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, বেশ করেছি।” তাঁর দাবি, যদি সবকিছু আদালতেই নির্ধারিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলিকে বৈঠকে ডাকার অর্থ কী? ডাকা হলে তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই ঘটনার আগে দিল্লিতেও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা তাঁদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনেননি। সোমবার কলকাতার বৈঠকের পর সেই অভিযোগই যেন আবার নতুন করে সামনে এল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ও শাসক দলের মধ্যে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই এসআইআর ইস্যুতে আইনি লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপর।
তবে সোমবারের এই উত্তপ্ত বৈঠক রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, আইন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই এই সংঘাতের সূত্রপাত। এখন নজর আদালত ও কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
