
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জল্পনা এখন সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari সম্প্রতি ভোটের সময় নিয়ে বড় দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন পয়লা বৈশাখের পর যে কোনো দিন অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের হাতে মাত্র ছয় সপ্তাহের সময় বাকি রয়েছে। এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে ভোট নিয়ে জল্পনা আরও ঘনিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাজ্যের মানুষকে জোটবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মানুষ জাগুন! যদি বাংলাকে বাঁচাতে চান, তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিতে হবে।” তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে সংবিধানবিরোধী সরকার আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নেই। শুভেন্দু আরও জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ও গ্রাম্য ও শহরাঞ্চলে জোট বাঁধতে শুরু করেছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি মমতার পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই মন্তব্যের জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা Jayprakash Majumdar কটাক্ষ করেছেন। তিনি শুভেন্দুকে সংবিধানের পরাকাষ্ঠা আখ্যা দেন এবং বলেন, বিজেপি যা বলছে, নির্বাচন কমিশন সেটাই করছে। এই ধরনের রাজনৈতিক সমালোচনা রাজ্যের ভোটের প্রেক্ষাপটকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
এদিকে, নির্বাচনী কমিশনের ফ্লেবেঞ্চ রাজ্যে দুই দিনের সফরে রয়েছে। কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ভোটের দফা নির্ধারণ সংক্রান্ত কোনও বৈঠক হয়নি। সূত্রের খবর, রাজ্য প্রশাসন এক দফায় ভোট করাতে চায়, কিন্তু প্রশাসনিক সমস্যার কারণে একাধিক দফার পরামর্শও উঠে এসেছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। শুভেন্দুর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল, সাধারণ ভোটার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সব মিলিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি, জোট এবং ভোটের দফা নিয়ে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। পয়লা বৈশাখের পর রাজ্যে ভোটের সম্ভাবনা, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং রাজনৈতিক দলের প্রস্তুতি, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে একেবারে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
