
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘বাংলার যুবসাথী প্রকল্প’ নিয়ে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও টাকা পাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee–র ঘোষণা অনুযায়ী গত ৭ মার্চ থেকে অনেক উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ১৫০০ টাকা জমা পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও অনেক আবেদনকারী সেই টাকা পাননি বলে অভিযোগ উঠছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। জানা গেছে, প্রায় ৮৪ লক্ষ থেকে ১ কোটি যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। এত বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
যারা অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি পোর্টালে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত এগোচ্ছে। কারণ অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য ইতিমধ্যেই ডিজিটাল সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকে এবং সেগুলি দ্রুত মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইনে আবেদনকারীরা আগে টাকা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, যারা ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প বা অন্যান্য সরকারি ক্যাম্পে অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাদের তথ্য প্রথমে ম্যানুয়ালি কম্পিউটারে আপলোড করতে হচ্ছে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে এই তথ্য সিস্টেমে তোলার পরই শুরু হচ্ছে যাচাই প্রক্রিয়া। তাই অফলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হওয়াই স্বাভাবিক বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, যেসব আবেদনকারী ত্রুটিহীন তথ্য দিয়েছেন এবং যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা রয়েছে, তারাই প্রথম দফায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হচ্ছে।
তবে অনেক আবেদন পেন্ডিং বা বাতিল হওয়ারও কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। প্রশাসনের মতে, যদি কোনও আবেদনকারী ইতিমধ্যেই অন্য সরকারি প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধু–র সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য হতে পারেন। এছাড়া বয়সসীমা ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে না হলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
নথিপত্রে ভুল থাকলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভোটার কার্ডের সঠিক ছবি আপলোড না করা, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মোবাইল নম্বর ও আধার লিঙ্ক না থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
আবেদনকারীরা চাইলে সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজের Application Status চেক করতে পারেন। আবেদন নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ-ইন করলেই বর্তমান অবস্থার তথ্য পাওয়া যাবে। কোনও সমস্যা থাকলে সরকারি হেল্পডেস্ক নম্বরেও যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, ধাপে ধাপে যাচাই শেষ হলেই সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। তাই যারা এখনও টাকা পাননি, তাদের কিছুটা ধৈর্য ধরারই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
