
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ইস্যুতে বড় অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যদি কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে সেই ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে।
অভিষেকের দাবি, সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কথায়, যদি কোনও নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাংকের KYC আপডেটের সময় সমস্যায় পড়তে পারেন তিনি। কারণ সেই সময় অনেক ক্ষেত্রেই ভোটার আইডি পরিচয়পত্র হিসেবে জমা দিতে হয়। কিন্তু যদি ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, তাহলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, দিল্লির এক উচ্চপদস্থ আমলা নাকি তাঁকে ফোন করে সতর্ক করেছেন। সেই আমলার কাছ থেকেই তিনি এই সম্ভাব্য বড় ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়েছেন বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র ভোটার তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পিছনে আরও বড় পরিকল্পনা থাকতে পারে।
অভিষেকের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার মধ্যে ফেলা হতে পারে। এমনকি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি কোনও ব্যক্তি ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে না পারেন, তাহলে তাঁর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে এবং সেই অর্থের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন।
এদিন তিনি কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, দিল্লি থেকে আসা বিভিন্ন শীর্ষ বিজেপি নেতারা যে হোটেলে থাকেন, একই হোটেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের থাকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা উচিত।
অন্যদিকে, রাজ্যে ভোটের আগে অশান্তি এবং হিংসা রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানোই নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। ভোটের সময় বোমা-গুলির সংস্কৃতি বন্ধ করতেই হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, SIR ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে কতটা বাড়বে। ভোটের আগে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
