
মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা সামনে এল। ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মাঝেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র হস্তক্ষেপের দাবি তুললেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত Hussain Hassan Mirza। তাঁর দাবি, ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগানো গেলে একটি ফোন কলেই এই যুদ্ধ থামানো সম্ভব।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত। Iran, Israel এবং United States-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি আঘাত ও সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে এক সাক্ষাৎকারে মির্জা বলেন, ভারত বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ফলে দিল্লি যদি সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে পরিস্থিতি শান্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
মির্জার বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি ইরান ও ইজরায়েলের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাহলে এই সংঘাত দ্রুত থামতে পারে। তাঁর একটি ফোনই যথেষ্ট হতে পারে পরিস্থিতি শান্ত করতে।” তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে দুই দেশেরই সুসম্পর্ক রয়েছে, যা এই সংকটের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ইজরায়েলের সঙ্গেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইজরায়েল সফরও সেই সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে প্রায় ৩৫ লক্ষ ভারতীয় বাস করেন এবং গত কয়েক দশক ধরে দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ভারতের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে সংঘাতের জেরে গালফ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু গালফ দেশকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও United Arab Emirates-এর প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযান চালাতে দেওয়া হয়নি। একই কথা জানিয়েছে Kuwait এবং Qatar-ও।
উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণের জবাবে ইরানও পাল্টা শতাধিক মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে বলে খবর। ফলে গোটা গালফ অঞ্চলেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে দিকেই এখন নজর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এখন দেখার বিষয়, এই সংকট নিরসনে দিল্লি ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।
