
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সফরে এসেছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar। মঙ্গলবার তাঁর এই সফরের শেষ দিন। দিনের শুরুতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে, যার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক অন্যতম।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছান নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্য সফরের আগেই এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি পাঠিয়েছিল Election Commission of India।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, এসপিএনও এবং সিএপিএফ-এর নোডাল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এরপর রাজ্যের মুখ্যসচিব ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা, ভোটের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এরপর একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বিকেলের মধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
তবে এই সফর ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। কলকাতায় পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারকে। বিমানবন্দরের বাইরে শাসক দলের একাংশের কর্মী-সমর্থক তাঁর কনভয়ের সামনে কালো পতাকা দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান।
পরবর্তীতে তিনি Kalighat Kali Temple-এ পুজো দিতে গেলে সেখানেও একদল বিক্ষোভকারী ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন। পরে Belur Math এবং Dakshineswar Kali Temple সফরেও একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। যদিও বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করে তিনি শুধু বলেন, “মা কালী সবার ভাল করুন।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ছে। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরও কেন নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সামনে।
এদিকে সোমবারই আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে এক বা দু’দফায় ভোট আয়োজনের দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগও তুলে সরব হয়েছে তারা।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের এই সফর ও একের পর এক বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
