
মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার আবহে নতুন করে বাড়ল রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল Iran। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে তারাই; আমেরিকা নয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সংঘাত ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা বিবৃতি দেয় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক সংগঠন Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। তাদের বক্তব্য, এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা রয়েছে তেহরানের হাতেই।
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা আমরা ঠিক করব। আমেরিকা কোনও যুদ্ধ শেষ করতে পারে না। এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এখন আমাদের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমেরিকা ও তার মিত্রদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব স্পষ্ট। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমেরিকা সহ একাধিক দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। প্রায় চার বছর পর আমেরিকায় এত দ্রুত তেলের দাম বাড়তে দেখা গিয়েছে বলে অর্থনৈতিক মহলের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্তরেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন Vladimir Putin। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ করার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন পুতিন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং সংঘাত দ্রুত থামতে পারে। কিন্তু ইরানের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখনও থামার কোনও নিশ্চিত লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শেয়ার বাজার ও তেলের দামে। প্রথমে দাম দ্রুত বাড়লেও পরে কিছুটা স্থিতি ফিরেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের আশাবাদী বার্তার বিপরীতে ইরানের কঠোর অবস্থান নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে। এখন নজর কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, আসন্ন দিনগুলোতেই বোঝা যাবে সংঘাতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।
