
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। ইরানের ড্রোন হামলায় দুবাই বিমানবন্দর আশেপাশের এলাকায় আহত হয়েছেন এক ভারতীয়সহ চারজন। পাশাপাশি বাহরিনেও বিস্ফোরণ ঘটে। তেহরানের এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানকে সতর্ক করেছিলেন, এবার তাদের লক্ষ্য হবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এরপরই ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, এবার তারা আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ব্যাঙ্ক, এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
দুই পক্ষের এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব জ্বালানিসংকটে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের কারণে অঞ্চলটি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। লেবাননে ইজরায়েলের হামলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ৪ জন।
ইতিমধ্যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। এতে তেহরানের একাধিক অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইরের। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্কে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
সংঘাতের ফলে ইরানে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারতসহ একাধিক দেশ শান্তি প্রস্তাব দিলেও কোন পক্ষই সরতে রাজি হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই জ্বালানি-সংকট এবং সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, তেল সরবরাহ, এবং বিমান চলাচলেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তৎপর না হলে, সংঘাত আরও বিস্তৃত ও বিধ্বংসী আকার নিতে পারে।
