
বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে আবারও তৎপর হয়ে উঠল তদন্তকারী সংস্থা। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানদের নিয়ে তাঁর বাড়িতে অভিযান শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, এই তল্লাশির পাশাপাশি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে একটি নোটিসও দিয়ে গিয়েছে ইডি। সেই নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। এর আগে ডাকা হলেও তিনি সরাসরি হাজির না হয়ে আইনজীবী পাঠিয়েছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে। এবার তাই নতুন করে তলব করা হয়েছে তাঁকে।
কয়লা পাচার মামলায় কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। এই মামলায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামও উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই গত কয়েক মাস ধরে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও গত ৩ ফেব্রুয়ারি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী রূপা মণ্ডলকে সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তিনি নিজে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবী পাঠিয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে আবারও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো এবং নতুন করে নোটিস দেওয়া ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে ভোটের আগে তদন্তের গতি বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে একই দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়াও যথেষ্ট উত্তপ্ত। কলকাতা হাইকোর্টে রক্তহীন ভোটের দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, ভোটের সময় যাতে কোনও ধরনের হিংসা, অগ্নিসংযোগ বা ভয় দেখানোর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সংবেদনশীল এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং সমস্ত বুথে সিসিটিভি ও ভিডিওগ্রাফি বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাজ্যে আজই পৌঁছচ্ছেন নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন তিনি। আগামীকাল তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস গত ৫ মার্চ আচমকাই দিল্লিতে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার পরই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভোটের আগে তদন্ত, আদালতের মামলা এবং প্রশাসনিক পরিবর্তন, সবকিছু মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
