
কলকাতা: মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে নতুন রাজনৈতিক ও সম্পত্তি বিতর্কের জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানাকে শক্তিপুর থানায় তলব করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি জলা জমি বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করেছেন।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছিল হুমায়ুনের স্ত্রীর কাছে, কিন্তু সাড়া না পাওয়ায় পুলিশি সমন জারি করা হয়েছে। আজ বেলা ১২টায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে মীরা সুলতানাকে। তবে তিনি হাজিরা দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগেও হুমায়ুন কবীরের পরিবারের একাধিক সদস্যকে পুলিশের তলবের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের জামাইকে মাদক মামলায় লালগোলা থানায় তলব করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে হাজিরা দিতে বলা হয়, এবং ৮ ফেব্রুয়ারি দায়ের হওয়া নতুন মামলায়ও তাকে তলব করা হয়। একই সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, তার জামাইকে লালগোলা থেকে তৃণমূল প্রার্থী করতে চাইছে, অথচ একই সময়ে পুলিশ তার পরিবারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলকে জিজ্ঞাসা করুন, যারা একদিকে আমাদের সম্পত্তি ক্রোক করতে চাইছে, আবার অন্যদিকে প্রার্থী করার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে, এরা কতটা কুচক্রী।”
পুলিশি তলব এবং নোটিস জারি হওয়ার এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়িয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের বিতর্ক ও সম্পত্তি বিষয়ক মামলা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নাগরিকরা এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে জলা জমি বুজিয়ে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগের পরে। ভূমি ও জল সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, এমন কর্মকাণ্ড বেআইনি, তাই প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
এর সঙ্গে ভরতপুরের রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তৃণমূল-জনতা উন্নয়ন পার্টির মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপও যুক্ত হয়ে গেছে। ফলে, হুমায়ুন কবীরের পরিবারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি, সম্পত্তি ও আইনি জটিলতা একসাথে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর, আজকের দিনে হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীর হাজিরা দেওয়া এবং পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকে সকলের নজর। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই এই মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হবে।
