
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক শহরের প্রখ্যাত বর্গভীমা মন্দিরে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন। দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে মন্দির কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, ২১ মার্চের পর থেকে সাধারণ ভক্তদের জন্য আর মায়ের ভোগ প্রসাদ বিতরণ করা হবে না। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছে। মন্দিরের ভক্তরা জানিয়েছেন, “অনেক দূর থেকে আশা নিয়ে আসি মায়ের ভোগ পাওয়ার জন্য। যদি না পাই, ভক্তি তো ভাঙবে।”
তমলুক বর্গভীমা মন্দির সতীর ৫১ পীঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ পীঠ। প্রতিদিন ভক্তদের জন্য এবং মায়ের পূজার জন্য ভোগের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং রান্নার গ্যাসের অভাবে মন্দিরে ভোগ তৈরি করা এখন কঠিন। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই বুকিং করেছেন, তাদেরও ফোন করে জানানো হচ্ছে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভোগ বন্ধ। গ্যাস সরবরাহের সমস্যা সমাধান হলে মন্দির আবার ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি ভারতের এলপিজি সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটের কারণে দেশের হাজার হাজার হোটেলও বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু ব্যবসা বা হোটেল নয়, এমন সংকট মন্দিরের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার রিফিলের ন্যূনতম অপেক্ষার সময় ২১ দিন থেকে ২৫ দিনে উন্নীত করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একবার রিফিল করার পর পরবর্তী বুকিং করতে কমপক্ষে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো সিলিন্ডারের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা এবং মজুত করে রাখার প্রবণতা কমানো।
গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়ছে। রান্নার জন্য সিলিন্ডার পাওয়া দুষ্কর হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হোটেল, এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয়তা, সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। ভক্তরা আশা করছেন দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে এবং আবার মায়ের ভোগ প্রসাদ পাওয়া যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, কেবল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়, তার প্রভাব দেশের ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরের ভক্তরা এবারই প্রথম এত বড় ধরনের ভোগ সংকটে মুখোমুখি হলেন।
