
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই জাহাজগুলিতে মাইন পাতা ছিল বলে দাবি করেছে US Central Command। ভিডিওর মাধ্যমে ধ্বংসের মুহূর্তও প্রকাশ করেছে আমেরিকা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতার কাজ করে থাকে, তা অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। না হলে ইরানকে এমন শক্তি দেখাতে হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি।” ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
এর আগে, শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena ধ্বংস করেছিল মার্কিন সেনা। পশ্চিম এশিয়ায় ইতিমধ্যেই যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল। ইজরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও তাদের মিত্ররা হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। এই প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি আমদানি-রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের চেষ্টা শুরু করেছে ইরান, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই মার্কিন সেনা ১৬টি মাইন-পাতা জাহাজ ধ্বংস করেছে। সূত্রের খবর, প্রণালীতে এখনও ব্যাপকভাবে খনি স্থাপনের কাজ শুরু হয়নি, তবে কয়েক ডজন মাইন ইতিমধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে ইতিমধ্যেই অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
মার্কিন সেনা এই ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে ১০ মার্চ। US Central Command এর তরফে জানানো হয়েছে, একাধিক ইরানের জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি মাইন-পাতা জাহাজ ছিল। ধ্বংসের ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজগুলি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক হয়েছে। অনেক দেশই হরমুজ প্রণালী রক্ষা ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের উত্তেজনা কমার কোনো চিহ্ন এখনও দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘর্ষের প্রভাব সাময়িক নয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একবার এটি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেবে।
এখন বিশ্ববাসীর নজর তাকিয়ে আছে, ইরান কি অবিলম্বে মাইন অপসারণ করবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে?
