
কলকাতা: ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে এখন বিতর্কের মুখে। গত রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর পুরস্কার বিতরণের পোডিয়ামে বসে হার্দিক ও তাঁর বান্ধবী মাহিকা শর্মা কিছুক্ষণের জন্য শুয়ে পড়েন। সেই সময় তাঁর কাঁধে জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ভিত্তিতে পুণের আইনজীবী ওয়াজিদ খান অভিযোগ করেছেন, এটি জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননা। অভিযোগটি শিবাজিনগর থানায় দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবীর বক্তব্য, ১৯৭১ সালের জাতীয় পতাকা আইনের ২ নং ধারা অনুযায়ী পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা দেশের সকল নাগরিকের দায়িত্ব।
বিশ্বকাপ জয়ের পর হার্দিকের আচরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হার্দিক মাহিকাকে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁদের সন্তান অগস্ত্যকে পাশে খেলতে দেখা যায়। যদিও অনেকেই বিষয়টিকে বিনোদন হিসেবে দেখেছেন, তবে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ মনে করছেন, জাতীয় দলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় এমন আচরণ শালীনতার সীমানা ছাড়িয়েছে।
হার্দিকের সাথে সম্পর্কিত মাহিকা সম্প্রতি যথেষ্ট আলোচনায় ছিলেন। ২০২৪ সালে নাতাশা স্ট্যানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হার্দিক মাহিকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। বিশ্বকাপ জয়ের পর মাহিকাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন তিনি। মাহিকা প্রায়শই মাঠেও দেখা যায়, বিশেষত সন্তান অগস্ত্যের সঙ্গে তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই হার্দিককে সমালোচনা করেছেন, কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যঙ্গ করেছেন। তবে FIR দায়েরের ফলে হার্দিককে এখন আইনি তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে হতে পারে, যা ক্রিকেটের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্যও চাপ সৃষ্টি করছে।
আইনজীবী ওয়াজিদ খান সংবাদসংস্থা ANI-কে বলেন, “ফাইনালে জয়ের পর হার্দিকের আচরণ জাতীয় পতাকার মর্যাদার প্রতি অসম্মানসূচক। যদিও অভিযোগটি অন্য শহরে করা হয়নি, দেশের যে কোনো জায়গায় পতাকার অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা যায়।” পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং FIR কপি প্রদান করেছে।
ক্রিকেট অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় ক্রিকেট ভক্ত এবং সাধারণ মানুষ দুইপক্ষের বক্তব্য নিয়ে বিভক্ত। কেউ হার্দিককে দোষারোপ করছেন, কেউ আবার সামাজিক বিনোদন হিসেবে দেখছেন। এই ঘটনার পর বিশ্বকাপ জয় উদযাপনকেও এখন প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
ভারতীয় ক্রিকেট এবং সামাজিক মিডিয়ার এই মিলিত প্রতিক্রিয়া হার্দিকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে, যেখানে আইন, নৈতিকতা এবং জনপ্রিয়তার সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে।
