
সুপ্রিম কোর্ট নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর চিতাভস্ম ভারতে আনার আবেদন খারিজ করেছে। এই আবেদন করেন নেতাজির এক আত্মীয়, যিনি টোকিওর রেনকোজি মন্দির থেকে চিতাভস্ম ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেছিলেন। বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলি। আবেদনকারী আশিস রায়ের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক সিংভি আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান, যা বেঞ্চ মঞ্জুর করে।
আদালতে আইনজীবী জানান, “আমি পরিবারের সদস্যদের পক্ষে আবেদন করছি। তারা সম্মানের সঙ্গে চিতাভস্ম বিসর্জন দিতে চান।” প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, এই বিষয়টি কতবার আদালতে আসবে। গত বছরও আদালত একই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সিংভি জানান, এটি পূর্বের আবেদনের সাথে একই নয়।
বেঞ্চ আরও জানতে চায়, চিতাভস্ম কোথায় আছে এবং এর প্রমাণ কী। সিংভি বলেন, “ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধানরা জাপানের রেনকোজি মন্দিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, এটি রেকর্ডে আছে।” বেঞ্চ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও যাচাই করতে চায়। সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী ৮৪ বছর বয়সী কন্যা এবং আবেদনকারী তার তুতো ভাই। বেঞ্চ বলেন, “মেয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত নেই। যদি তিনি চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে আদালতে উপস্থিত হতে হবে। আমরা তার অনুভূতিকে সম্মান করি।”
প্রসঙ্গত, চিতাভস্ম দেশে আনার দাবিতে বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছিল। তবে বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ, পরিবারের সকল মূল সদস্যের সম্মতি ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আদালত আরও উল্লেখ করে, পরিবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এই খারিজ হওয়া সিদ্ধান্তে ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যদিও চিতাভস্ম দেশে আনা সম্ভব নয়, তবুও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে পরিবারের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছে।
নেতাজির চিতাভস্ম দেশে আনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করল, পরিবার এবং আইনগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা এ নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা দাঁড় করাল।
