
পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি-এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনার ঝড়। অনুষ্ঠানটি কলকাতার লোকভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নজর কাড়েছে একটি ছোট কিন্তু বিশেষ মুহূর্ত। কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, বিমান বসুর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষভাবে একটি চেয়ার ছেড়ে দেন। মূলত সেই চেয়ারটি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জন্য নির্ধারিত ছিল। যেহেতু মেয়র উপস্থিত ছিলেন না, তাই মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য দেখিয়ে বিমান বসুকে বসার সুযোগ দেন।
কুণাল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “সৌজন্য। মেয়র আসবেন না। তাঁর নাম সরিয়ে বিমান বসুকে বসতে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ রাজভবনে, রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, লোকভবন থেকে বের হওয়ার সময়ও মুখ্যমন্ত্রী বিমানবাবুর গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন এবং তাঁর আগে নিজের গাড়ি না পাঠিয়ে প্রথমে বিমানবাবুর গাড়ি পৌঁছে দেন।
এই সৌজন্যমূলক আচরণ কেবল একটি ভদ্রতার উদাহরণই নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে সম্মান প্রদর্শনের বার্তা দেয়। কুণাল ঘোষ পোস্টে সিপিএমকেও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন, লিখেছেন, “সিপিএম দেখেও শেখে না, ঠেকেও শেখে না। শুধু মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেরেব্বাজিতে আছে ওরা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সৌজন্য বজায় রাখা এখনও সম্ভব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিমান বসুর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও অনুষ্ঠানটি পরিচালনার সময় ভদ্রতা এবং সামাজিক শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিনোদন, রাজনীতি এবং সামাজিক আচার-ব্যবহারের এক আকর্ষণীয় মিশ্রণ হিসেবে এই মুহূর্তটি এখন সামাজিক মাধ্যম ও মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে। ভোট ও রাজনীতির উত্তেজনার মাঝেও মানুষের সৌজন্য এবং নৈতিকতা এখনও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব, এটাই দেখিয়েছে লোকভবনের এই ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
