
গত দুই সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের জোগান ও সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার স্বস্তির বার্তা নিয়ে মুম্বই বন্দরে নোঙর ফেলল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’। সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটিই প্রথম, যা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার পর হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছল।
ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের জেরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা এই পথ দিয়ে এক লিটার তেলও বের হতে দেবে না। বুধবারই ভারতগামী একটি থাই মালবাহী জাহাজ ‘ময়ূরী নারী’ সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ১ মার্চ সৌদির রাস তানুয়ারা বন্দর থেকে রওনা হওয়া ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’ সফলভাবে মুম্বই পৌঁছল। এই তেল এখন মাহুলের রিফাইনারিতে পাঠানো হবে, যা দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, এই আলোচনার পরেই ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ২৮টি জাহাজ রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭৭৮ জন ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন। ইতিমধেই ‘দেশ মহিমা’, ‘দেশ অভিমান’ ও ‘স্বর্ণ কমল’-এর মতো সাতটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদ এলাকায় পৌঁছেছে।
সফলভাবে তেল পৌঁছলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কাটেনি। যুদ্ধের প্রভাবে বৃহস্পতিবারও অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাল প্রতি ৩৭১ টাকা বেড়ে ৮,৪০৬ টাকায় পৌঁছেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ভারত সরকার বিকল্প রুটের খোঁজ শুরু করলেও, আপাতত মুম্বই বন্দরে এই জাহাজটির আগমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
