
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে তিনটি স্পষ্ট শর্ত সামনে রাখল Masoud Pezeshkian নেতৃত্বাধীন ইরান সরকার। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, এই শর্তগুলি মানা না হলে যুদ্ধবিরতির প্রশ্নই উঠবে না। ইরানের মতে, তাদের সার্বভৌম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian সামাজিক মাধ্যমে জানান, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে নিতে হবে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, চলমান সংঘাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনও সামরিক আগ্রাসন হবে না, এমন শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।
তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগোতে পারে। ইরান দাবি করেছে, তারা শান্তি চায়, কিন্তু সেই শান্তি হতে হবে ন্যায্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী।
এর মধ্যেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র Abolfazl Shekarchi। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, যদি ইরানের বন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হয়, তাহলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের কোনও বন্দর বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রই ইরানের পাল্টা আক্রমণের বাইরে থাকবে না। তাঁর কথায়, ইরানের অবকাঠামোর উপর হামলা হলে তার জবাব আরও বড় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে। তাঁর কথায়, আমেরিকার সামরিক বাহিনী পরিকল্পনার থেকেও দ্রুত গতিতে অভিযান চালাচ্ছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি। বরং সামনের কয়েক সপ্তাহ আরও সামরিক অভিযান চলতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ঘোষণা করেছে ইরান, অন্যদিকে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি চলছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
