
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারেও। জ্বালানি থেকে পরিবহণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে খরচ। তবে আশ্চর্যজনকভাবে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে ডিমের বাজারে। দেশের একাধিক রাজ্যে হঠাৎ করেই ডিমের দাম প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৭ টাকা, এখন অনেক জায়গায় তা নেমে এসেছে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকার মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে লাভের বদলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ডিম উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতের ডিম রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাধারণত দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ ডিম ওইসব দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে সেই রফতানি পুরোপুরি থমকে গেছে। ফলে বাজারে ডিমের জোগান বেড়ে গেলেও চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।
ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কর্নাটকে গত কয়েক সপ্তাহে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে প্রতি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৭.০৬ টাকা, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৪.৬০ টাকায়। এই রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে হোসপেট ও মহীশূর অঞ্চল ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় কেন্দ্র।
সম্প্রতি মহীশূর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিম রফতানির জন্য পাঠানো একটি কন্টেনার মাঝপথেই আটকে পড়ে। প্রায় ৪.৭ লক্ষ ডিম নিয়ে সেই কন্টেনার বিদেশে যাওয়ার বদলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। সাধারণত তামিলনাড়ুর নামাক্কল অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি ডিম উপসাগরীয় দেশগুলিতে রফতানি করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত ডিম জমে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল রমজান মাস। এই সময় অনেক জায়গায় ডিমের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কমে যায়। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে বিক্রি কম হচ্ছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম পড়ে যাচ্ছে দ্রুত।
তেলেঙ্গনাতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। দুই মাস আগেও যেখানে প্রতি ডিমের দাম প্রায় ৮ টাকা ছিল, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৩.৫০ থেকে ৩.৮০ টাকায়। রাজ্যটিতে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডিম উৎপাদন হয় এবং বার্ষিক ডিম উৎপাদনের বাজারমূল্য প্রায় ১৮,৬০০ কোটি টাকা। তবে বর্তমান দামে বিক্রি হওয়ায় প্রতি ডিমে প্রায় ১.৫০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উৎপাদকরা।
দাম এতটা কমে যাওয়ায় অনেক উৎপাদক এখন অতিরিক্ত ডিম হিমঘরে সংরক্ষণ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় এই ডিম প্রায় তিন মাস পর্যন্ত রাখা সম্ভব। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন চলবে, আর ডিমের বাজার কবে স্থিতিশীল হবে তা নিয়ে এখনও বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
