
রাজ্যে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে শুক্রবার থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতর, স্কুল-কলেজ ও আদালতের সামনে পিকেটিং শুরু করেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারী পরিষদের ডাকে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। সংগঠনগুলির দাবি, দিনভর এই আন্দোলন চলবে এবং সরকারের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, Supreme Court of India-এর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই প্রতিবাদেই রাজ্যজুড়ে পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থানে রয়েছে Government of West Bengal। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিনে সরকারি ও সরকার-অধীনস্থ দফতরগুলিতে পূর্ণ বা অর্ধদিবস ছুটির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। শুধুমাত্র মেডিক্যাল লিভ, চাইল্ড কেয়ার লিভ, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং আর্নড লিভের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই তালিকার বাইরে ছুটি নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে এক দিনের বেতন কাটা হতে পারে। এমনকি জবাবদিহি না করলে সেই দিনটিকে ‘নন ডাইস’ হিসেবেও গণ্য করা হতে পারে।
কর্মচারী সংগঠনগুলির আরও দাবি, রাজ্যে প্রায় ছয় লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে এবং স্থায়ী পদের পরিবর্তে অস্থায়ী নিয়োগ চলছে। তাই স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নিয়োগ, স্থায়ী কর্মীদের ডিএ প্রদান এবং পেনশনভোগীদের ডিয়ারনেস রিলিফ দেওয়ার দাবি তুলেছে তারা।
এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক পক্ষ। সমর্থন জানিয়েছে Bharatiya Janata Party, Communist Party of India (Marxist)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নও। ফলে ডিএ ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
