
কলকাতা: রান্নার গ্যাসের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। সাময়িক ভাবে ফের রেশন দোকানের মাধ্যমে কেরোসিন তেল বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চার বছর পর এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির বার্তা মিলেছে সাধারণ মানুষের কাছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোলিটার কেরোসিন তেলের বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২২ সাল থেকে পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রেখে রেশন দোকানে কেরোসিন তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে রান্নার গ্যাসের বাজারেও। ফলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্র সাময়িক ভাবে কেরোসিনের গণবণ্টনে ছাড়পত্র দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রেশন ডিলারদের সংগঠন All India Fair Price Shop Dealers Federation-এর। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী Hardeep Singh Puri-কে চিঠি দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন বিবেচনা করেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন রেশন দোকানে কেরোসিন তেলের সরবরাহ শুরু হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য অনুমোদিত প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোলিটার কেরোসিন তেল আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তুলে নিতে হবে। এরপর রেশন ডিলারদের মাধ্যমেই তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
রেশন ডিলারদের সংগঠনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। কারণ বর্তমানে রান্নার গ্যাসের দাম অনেকটাই বেড়েছে এবং অনেক জায়গায় সরবরাহ নিয়েও সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তাই বিকল্প হিসেবে কেরোসিনের ব্যবস্থা মানুষের কাজে লাগতে পারে।
তবে সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এই সাময়িক ছাড়পত্র যেন ভবিষ্যতে স্থায়ী সিদ্ধান্তে পরিণত করা হয়। তাঁদের মতে, গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কেরোসিন তেল বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এদিকে রাজ্যে ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইনও দেখা যাচ্ছে। ফলে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামাল দিতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
