
লোকসভা ভোটের আবহে কলকাতার ব্রিগেড ময়দান শনিবার দুপুর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপে টগবগ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ব্রিগেডে পৌঁছন। দুপুর গড়াতেই মঞ্চে একে একে বক্তব্য রাখেন বিজেপির শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা। তাঁদের বক্তৃতার মূল নিশানায় ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সবচেয়ে তীব্র মন্তব্য করেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে না এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশেই সবকিছু চলে। তাঁর দাবি, “পুলিশ যদি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য নিরপেক্ষ হয়, তাহলে খেলা শেষ হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যের পরেই সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এর পাশাপাশি তৃণমূলের পুরনো অভিযোগেরও জবাব দেন মিঠুন। তৃণমূলের দাবি ছিল, বিজেপি নাকি টাকা দিয়ে লোক এনে সভা ভরায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে মিঠুন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ১,৫০০ টাকা ভাতা দিয়েও মানুষ আনতে পারেন না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
বিজেপির আর এক শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষও তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের ছোটখাটো নেতারা নিজেদের বাহুবলী মনে করছেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর জমি থাকা সত্ত্বেও শিল্প গড়ে উঠছে না, কারণ রাজ্যের বর্তমান সরকারের জন্য শিল্পপতিরা এখানে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। দিলীপ ঘোষের দাবি, অন্য রাজ্যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্প প্রকল্প শুরু হয়ে যায়, কিন্তু বাংলায় সেই পরিবেশ নেই।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে “তৃণমূল নামক জঞ্জালকে বিসর্জন দিতে হবে।” তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছেন, কিন্তু রাজ্য সরকার তা ঠিকভাবে কাজে লাগায়নি।
এদিন দুপুর ২টা ১৫ নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকে তিনি ব্রিগেডের সভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁর ভাষণের দিকে এখন নজর রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক মহলের। ভোটের আগে ব্রিগেডের এই সভা থেকেই কী বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী, সেটাই এখন দেখার।
