
কলকাতার পথে রক্তারক্তি কাণ্ড। প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে গিরিশ পার্কে বিজেপির বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ইঁটবৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। কিন্তু এই গোটা ঘটনায় শাসকদলের প্রতিক্রিয়া অবাক করার মতো।
গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে তাদের নেতার বক্তব্য শোনার জন্য জমায়েত হওয়ার। বিজেপির কর্মীরা বাসে করে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁদের ওপর যেভাবে পাথর ছোঁড়া হল তা সত্যিই বাদ দেওয়ার নয়। যখন শান্তিপূর্ণভাবে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয়, তখন সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রশ্ন হল, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া কি এখন শাসকের অভ্যেসে পরিণত হয়েছে?
এদিনের ঘটনা নিয়ে অনেক কথায় বলেছেন শশী পাঁজা। তাঁর কথায় এগুলো নাকি বিহারী, গুণ্ডা ও খুনিদের কাজ। সত্যিই কি Murder of democracy? আচ্ছা গণতান্ত্রিক পরিসরে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাদের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য শুনতে যাচ্ছে বাসে করে। তখন এইভাবে কাশ্মীরী স্টাইলে পাথর ছোড়া কোন গণতন্ত্রে আছে?
মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন তাঁর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে, তিনি নিজে আহত হয়েছেন এবং বিজেপির সমাবেশে গুন্ডা-মাওয়ালিদের ভিড় জমেছে। কিন্তু কয়েকটি বিষয় এখানে ভাববার মতো, মন্ত্রীর বাড়ি গলির ভেতরে। বিজেপির বাসগুলো প্রধান রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা। তবে কি গলি থেকে বাসের ওপর প্ররোচনা এসেছিল? নাকি সত্যিই বাস থামিয়ে গলি ঢুকে আক্রমণ করা হয়েছে?
মন্ত্রীর অভিযোগ যদি সত্যি হয় যে বিজেপির পাথর বৃষ্টিতে কাঁচ ভেঙেছে, তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে পুলিশি পাহাড়ায় থাকা বাসের ওপর আগে কেন হামলা হল? মন্ত্রী বিহারী বা ‘খুনি’ তকমা দিয়ে যাদের আক্রমণ করছেন, তারা কি এরাজ্যের নাগরিক নন? রাজনীতির লড়াইয়ে প্রাদেশিক উস্কানি কতটা কাম্য?
বউবাজার থানার ওসি-র আহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ। পুলিশের উপস্থিতিতেই যদি রাজপথ রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তৃণমূলের অভিযোগ—বিজেপি বাংলা দখল করতে চাইছে খুন করে। কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন ওঠে, বিরোধী শিবিরের যাত্রাপথে বারবার বিঘ্ন ঘটিয়ে কাদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে?
ইঁটের বদলে পাটকেল খাওয়া সব সময়ই যন্ত্রণাদায়ক। যখন শাসকদল বিরোধী শিবিরের প্রতিটি কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অলিখিত নিয়ম তৈরি করে, তখন সেই ‘পাথর-সংস্কৃতি’ একদিন বুমেরাং হয়ে নিজের বাড়ির জানলাতেও আছড়ে পড়তে পারে। গণতন্ত্র মানে কেবল নিজের বক্তব্য পেশ নয়, অন্যের যাত্রাপথকে সম্মান জানানও। ‘মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্রের হত্যার বুলি বলে নিজেদের অসহিষ্ণুতাকেই কি আড়াল করছেন না মাননীয়া মন্ত্রী? আসলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া শাসকদলের অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আজ যখন ইটের বদলে পাটকেল খেতে হয়েছে তাতে মন্ত্রীসহ শাসক দলের গোঁসা হয়েছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
