
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এরই মধ্যে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভামঞ্চে দীর্ঘদিন পর দেখা গেল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। শনিবারের এই উপস্থিতিকে অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক ‘কামব্যাক’-এর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
গত কয়েক মাসে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একাধিক জনসভা হয়েছে। কিন্তু সেই সব সভায় উল্লেখযোগ্য ভাবে অনুপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। ফলে বিজেপির অন্দরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে শনিবার ব্রিগেডের সভামঞ্চে তাঁকে দেখা যেতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সভামঞ্চে যখন দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করা হয়, তখন হাসিমুখেই তিনি মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে উপস্থিত অন্য নেতাদের সাদা পাজামা-পাঞ্জাবির ভিড়ে তাঁর পার্পল রঙের কুর্তাটি আলাদা করে নজর কেড়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর বিজেপির বড় মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
এক সময় যখন দিলীপ ঘোষ রাজ্য বিজেপির সভাপতি ছিলেন, তখন দলের মঞ্চে প্রায়ই বাদ পড়তেন কেন্দ্রীয় নেতা বাবুল সুপ্রিয়। সেই নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষও জানিয়েছিলেন বাবুল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিস্থিতির কিছুটা প্রতিফলন যেন দেখা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষের ক্ষেত্রেও।
তবে বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির রাজ্য সংগঠনে আবারও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দলীয় সংগঠনে নতুন সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই দিলীপ ঘোষকে আবার দলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিকে বিজেপির অন্দরের সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর সদর আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে দিলীপ ঘোষকে। বর্তমানে ওই আসনের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে দলীয় কৌশল অনুযায়ী তাঁকে অন্য কোনও আসনে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে।
গত প্রায় এক মাস ধরে খড়্গপুরেই বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। স্থানীয় স্তরে সংগঠন মজবুত করার কাজেও তাঁকে সক্রিয় দেখা গিয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, খড়্গপুর কেন্দ্রকে ঘিরেই তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিগেডের মঞ্চে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির অন্দরে তাঁর গুরুত্ব আবারও বাড়তে চলেছে।
