
নির্বাচন ঘোষণার পরই প্রশাসনে বড়সড় রদবদল, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে জগদীশ প্রসাদ মিনা। স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে সরানোর পর এবার তাঁকে ভিনরাজ্যে পাঠাল নির্বাচন কমিশন। এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লী পশ্চিম কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। ভোট ঘোষণার পর রবিবার গভীর রাতে তাঁকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর সোমবার তাঁকে অন্য দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, মঙ্গলবার সকালেই তাঁকে রাজ্যের বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভোটের আগে মিনাসহ ২৫ জন আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে দিল্লিতে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। যদিও প্রশাসনিকভাবে বলা হয়েছিল, এই প্রশিক্ষণ মানেই যে তাঁদের অবজারভার হিসেবে পাঠানো হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু বাস্তবে ভোট ঘোষণার পরই সেই তালিকা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অবজারভারদের তালিকা চেয়ে রাজ্য সরকারকে একাধিকবার স্মরণ করানো হয়েছিল। মোট পাঁচবার রিমাইন্ডার পাঠানো হলেও রাজ্যের তরফে কোনও তালিকা জমা দেওয়া হয়নি। এরপরই কমিশন নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিকদের অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করার পথে হাঁটে।
শুধু জগদীশ প্রসাদ মিনা নন, একইসঙ্গে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকেও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রসচিব পদে আনা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক সংঘমিত্রা ঘোষকে।
এই বদল শুধু প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পুলিশের শীর্ষ পদেও একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে ভোটের আগে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন এবার আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই হঠাৎ বদল রাজ্য প্রশাসনের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভোটের আগে এই প্রশাসনিক রদবদল যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তা বলাই যায়।
