
কলমে দৃষ্টি কুণ্ডু: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পদ্ম শিবিরের হাতিয়ার কি? ২৬ এর নির্বাচনে বিজেপি শিবিরে ভোট ব্যাংক পূর্ণ করার উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকলেও, এস আই আর এবং প্রশাসনিক রদবদল কতটা তাদের শক্তি যোগাবে? অফিসার বদল তো সাময়িক প্রক্রিয়া, কিন্তু সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য যে স্থানীয় নেতা দরকার, বিজেপি কি আজও সেই বিকল্প তৈরি করতে পেরেছে? একটি রাজনৈতিক দল কি কেবল প্রশাসনিক রদবদল কিংবা কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের (SIR) ওপর ভর করে সরকার সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে পারে? বা বাংলার মানুষের জন্য কোন সুবিধা জনক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আনতে পেরেছে তারা? এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বাংলার দুয়ারে আবারও বিধানসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে রাজনীতির ময়দানে সাজ সাজ রব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। ২১ নির্বাচনে “আবকি বার ২০০ পার” হুংকার দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু শেষমেশ তাদের ৭৭ এ গিয়ে থেমে থাকতে হয়েছিল। এর ফলে তারা রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল, বুথ স্তরে উপযুক্ত কাঠামোর অভাব।
বর্তমানে বিজেপির রণকৌশলে বড় জায়গা জুড়ে আছে, নির্বাচন কমিশনের এস আই আর প্রক্রিয়া… যা নিয়ে পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতারা বারংবার প্রশ্ন তোলেন অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ভোট কিনতে চাইছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান শাসকদলের দুর্নীতির অভিযোগকেও অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। বারংবার প্রশ্ন তোলা হয়, গত ১৫ বছরে এই বাংলাকে ধ্বংস করেছে মা-মাটি মানুষের সরকার, তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি দেখেছে বাংলার মানুষ। চাকরি চুরি থেকে মহিলাদের অসম্মান, এই নিয়ে সোচ্চার হয় বিরোধী শিবির। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ, শীর্ষ স্তরের অফিসারদের বদলি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা হয়তো একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
ইতিহাস সাক্ষী, বাংলায় বাম জমানা হোক বা বর্তমান তৃণমূল জমানা— ক্ষমতার চাবিকাঠি সবসময়ই ছিল নিচুতলার মজবুত সংগঠনের হাতে। বিজেপি যদি মনে করে, শুধুমাত্র আইনি জটিলতা বা প্রশাসনিক কড়াকড়ি দিয়ে ঘাসফুল শিবিরের শিকড় আলগা করে দেওয়া সম্ভব, তবে এটা তাদের ভুল ধারণা। কারণ, শেষমেষ ভোট দেন মানুষ। আর তাদের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য সেই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর লোকটিকে প্রয়োজন। শুধু আমলা বদলে বাংলার মসনদ পাওয়া যায়? তার জন্য মানুষের মন ও মাঠের লড়াই দুই জরুরি।
বর্তমানে কেন্দ্রের মসনদে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাংলার মানুষকে তো পাইয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য বাংলা দখলের প্রয়োজন আছে কি? ২৬ শে বিজেপি সরকার গড়ার ডাক কি আদৌ ব্যালট বক্স পর্যন্ত পৌঁছাবে? উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে।
