
ভোটের আগেই প্রশাসনে ভূমিকম্প! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আপত্তি সত্ত্বেও কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর নেতৃত্বে এক ধাক্কায় একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, অবিলম্বে বদলি কার্যকর করতে হবে এবং আগামী ১৮ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন কি না, তার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
সূত্রের খবর, এই নির্দেশে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আইপিএস অফিসারদের বদলি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের এডিজি-আইজি পদ থেকে শুরু করে আসানসোল-দুর্গাপুর, হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার—সব ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। পাশাপাশি একসঙ্গে ১৩ জন পুলিশ সুপার ও ডেপুটি কমিশনার পদেও বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যাঁদের সরানো হয়েছে তাঁদের নির্বাচন চলাকালীন কোনও নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। ফলে প্রশাসনিক স্তরে এই রদবদলের প্রভাব যে গভীর হবে, তা বলাই বাহুল্য।
এই ঘটনার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, একতরফাভাবে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সরানো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। কিন্তু সেই আপত্তিকে গুরুত্ব না দিয়েই কমিশন নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন এবার আগাম সতর্কতা নিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অতীতে ভোট-সংক্রান্ত উত্তেজনা বা অভিযোগ ছিল, সেখানে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে কমিশন।
তবে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, শাসকদলের তরফে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের আগে এভাবে ব্যাপক বদলি প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোটের আগে প্রশাসনে এই বড়সড় রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত ভোট প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়।
