
Jazzbaat 24 Bangla: ভোটের আগে রাজনীতির অন্দরমহলে হঠাৎই জোর চাঞ্চল্য। বামেদের প্রথম প্রার্থী তালিকায় নাম নেই যুবনেতা সৃজন ভট্টাচার্যের, আর তাতেই শুরু জল্পনার ঝড়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ব্যক্তিগত সম্পর্কই রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল?
তৃণমূলে সদ্য যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমানের সঙ্গে সৃজনের ঘনিষ্ঠতা নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সব জায়গাতেই তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল প্রকাশ্যে। প্রতীক উরকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন সৃজন। তাই প্রতীক উরের দলবদলের সময় থেকেই চর্চা শুরু হয়েছিল, সৃজনও কি একই পথে হাঁটবেন? যদিও সেই জল্পনায় বারবার জল ঢেলেছেন সৃজন নিজেই।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বামেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর। যাদবপুর তো দূরের কথা, কোনও আসনেই জায়গা পাননি তিনি। এর পরেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো দল কি তবে তাঁর উপর আস্থা হারাচ্ছে? আর সেই আস্থাহীনতার পেছনে কি রয়েছে প্রতীক উরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক?
এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন সৃজন ভট্টাচার্য। সমস্ত জল্পনাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “সবাইকে প্রার্থী হতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। সংগঠন আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, আমি সেটাই পালন করব।” তাঁর কথায়, নির্বাচনে লড়াই করার চেয়েও বড় বিষয় হল দলের আদর্শ ও সংগঠনকে শক্তিশালী করা।
সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগেই তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না। কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন সময়ের অভাব। বর্তমানে তিনি এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক, ফলে সংগঠনের দায়িত্বই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, পূর্ণ সময় না দিয়ে প্রার্থী হওয়া অনৈতিক।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টি এত সরল নয়। প্রতীক উরের দলত্যাগ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি সৃজনের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। তাঁর চোখেমুখে সেই আঘাতের ছাপও দেখা গিয়েছিল বলে দাবি অনেকের। ফলে দলের ভেতরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এখন দেখার, নির্বাচনের ময়দানে সরাসরি না নামলেও সংগঠনের কাজে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন সৃজন। বন্ধুত্ব, আদর্শ আর রাজনীতির এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।
