
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। টানা ১৪ দিন ধরে চলতে থাকা সংঘাতে এবার বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল United States। লক্ষ্য Iran-এর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, যা অবস্থিত হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা, যার ওজন প্রায় ২,২০০ কেজি (৫,০০০ পাউন্ড)। এই বিশেষ ধরনের বোমা মূলত ভূগর্ভস্থ বা শক্ত কংক্রিটে নির্মিত সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের মিসাইল লঞ্চার ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ সেখানে ইরানের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল মোতায়েনের কারণে উত্তেজনা চরমে উঠেছিল। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, ফলে এই অঞ্চলে কোনও সামরিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে জানায়, সফলভাবে একাধিক ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বোমা ব্যবহার করে ইরানের উপকূলবর্তী শক্তিশালী মিসাইল ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই সেই হামলার কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা।
এই হামলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানান, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য বড় হামলা ঠেকানোর জন্য। তবে একইসঙ্গে তিনি ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, অনেক দেশ এই অভিযানের যৌক্তিকতা মেনে নিলেও সরাসরি সহযোগিতা করতে পিছিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে তা শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
Strait of Hormuz-কে ঘিরে এই সংঘাত এখন বৈশ্বিক উত্তেজনার কেন্দ্রে। প্রশ্ন একটাই এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে, নাকি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে আগামী দিনে?
