
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা Adhir Ranjan Chowdhury। প্রায় ২৬ বছর পর তিনি কি আবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চলেছেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অন্দরে।
সূত্রের খবর, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বহরমপুর কেন্দ্র থেকেই অধীর চৌধুরীকে প্রার্থী করার কথা ভাবছে। বহরমপুর তাঁর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকেই শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আড়াই দশক লোকসভায় সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধীর। এমনকি তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার ভূমিকাতেও ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বর্তমানে তিনি কোনও সাংসদ পদে নেই। একইসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদও এখন অন্যের হাতে। ফলে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা ‘চাপমুক্ত’ অবস্থায় রয়েছেন অধীর, যা তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে নতুন করে মাঠে নামার সুযোগ করে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অধীর চৌধুরীর বিধানসভা অভিজ্ঞতাও একেবারে নতুন নয়। ১৯৯৬ সালে তিনি মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্বে ছিলেন। এরপরই তিনি লোকসভায় পা রাখেন এবং টানা বহু বছর বহরমপুরের সাংসদ হিসেবে নিজের প্রভাব বজায় রাখেন।
এদিকে, বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও লড়াই ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। বিজেপি তাদের বর্তমান বিধায়ক সুব্রত মৈত্রকেই আবার প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে। এই পরিস্থিতিতে যদি অধীর চৌধুরী প্রার্থী হন, তাহলে এই কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীরের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সংগঠনগত অভিজ্ঞতা কংগ্রেসকে নতুন করে শক্তি জোগাতে পারে। তবে প্রশ্ন একটাই, দল কি তাঁকে প্রার্থী করে ঝুঁকি নেবে, নাকি রাজ্যজুড়ে প্রচারের মুখ হিসেবে ব্যবহার করবে?
সবমিলিয়ে, বহরমপুর কেন্দ্র এখন রাজ্যের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ আসনে পরিণত হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, অধীর কি সত্যিই প্রার্থী হচ্ছেন, নাকি এই জল্পনাই শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে!
