
ভারতে এলপিজি সরবরাহে সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে কেন্দ্র সরকার পিএনজি বা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তৎপর। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে, এলপিজি চাহিদায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সেই পরিস্থিতিতে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) পাইপলাইন দ্রুত অনুমোদন দিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দফতরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে পাইপলাইন বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা কাটার খরচ বা পুনর্গঠন চার্জ মকুব করা হয় এবং দ্রুত কার্যকর করার জন্য নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের এলপিজির পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
শুধু গৃহস্থালি নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও পিএনজি ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল ও হস্টেলের মতো প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত সিটি গ্যাস সংস্থার মাধ্যমে পিএনজি সংযোগ নিতে পারবে। এই ক্ষেত্রে IGL, MGL, GAIL Gas এবং BPCL-এর মতো সংস্থাগুলো বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করছে।
হরমুজ প্রণালীতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উদ্বেগ বেড়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ভারতে মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পিএনজি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছায়, তাই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবহারকারীদের তুলনামূলকভাবে নিরাপত্তা দেয়।
সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন নিয়ে ICRA-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত বসিষ্ঠ বলেন, “দেশীয় গ্যাস উৎপাদন সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেয়। পিএনজি ব্যবহারে চাহিদা সামলানো এলপিজির তুলনায় অনেক সহজ।”
তবে পিএনজি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত নয়। ভারত আমেরিকা, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তাই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বা LNG সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য হলো এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমানো ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পিএনজি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্থিতিশীলতা আনা হচ্ছে। তবে এটি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
