
তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক প্রার্থী তালিকায় ফের রাজনৈতিক উথাল-পাথাল দেখা দিয়েছে। শওকত মোল্লা এবার ক্যানিং পূর্বের বদলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এই ঘোষণা ঘিরে শওকত অনুগামীদের মধ্যে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়, আর বুধবার সকাল থেকেই শওকত মোল্লার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ জারি থাকে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এবারের সিদ্ধান্তে তারা খুশি নয়। তাদের মতে, বাহারুল ইসালম ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী হওয়ার কারণে এখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। শওকত অনুগামীদের মতে, বাহারুল স্থানীয় নয়, তাই আসনটি ফিরিয়ে শওকতকে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
এই কেন্দ্রে আগের বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ জিতেছিল। এরপর থেকেই ভাঙড়ের রাজনীতিতে তৃণমূল ও আইএসএফের দ্বন্দ্ব চলছেই। হুঁশিয়ারি ও পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যে তপ্ত হয়েছে এলাকায় রাজনৈতিক আবহ। এবার আইএসএফের কাছে ভাঙড় ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, এবং শওকতের লড়াই যে সহজ হবে না তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মানছেন।
শওকত মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দলের শৃঙ্খলা মেনে চলব। আমাদের সুখ-দুঃখ সবই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শেয়ার করি। দাদার সঙ্গে কথা বলব, তারপর যে সিদ্ধান্ত নেব সেটাই মেনে নেব।” সরাসরি আক্ষেপ প্রকাশ করেননি শওকত। তবে রাজনৈতিক মহলে এবং অনুগামীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জল্পনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
ভোটের আগে এই বিতর্ক এবং বিক্ষোভ ভাঙড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। শওকত অনুগামীদের নাছোড় আন্দোলন এখন রাজনৈতিক আঙ্গিনায় আলোচনার বিষয়। এই আসনে স্থানীয় মানুষের দাবী, শওকতকেই ফের আনা হোক, যাতে ভোটের আগে এলাকায় রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাঙড়ের রাজনীতি এখন নতুন সমীকরণে প্রবেশ করেছে। ভোটের আগে এই ধরনের হিংসা এবং বিক্ষোভ প্রতিটি দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
শওকত মোল্লার নির্বাচনী লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়, বরং তৃণমূলের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। রাজনৈতিক উত্তেজনা, অনুগামীদের আন্দোলন এবং দ্বন্দ্বের আবহে ভাঙড়ের রাজনীতি এখন নজরকাড়া মোড়কে প্রবেশ করেছে।
