
হুগলি: একসময় ফুটবল মাঠে তাঁর দাপটে কাঁপত গ্যালারি, আর এখন সেই পরিচিত মুখই নামছেন রাজনীতির মাঠে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সপ্তগ্রাম কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বোসকে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মুখদের সরিয়ে এই নতুন চমক এনে দল কার্যত অন্য বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় খুব বেশি অপ্রত্যাশিত নাম না থাকলেও, বিদেশ বোসের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তিনি সত্তরের দশকের পরিচিত ফুটবলার, যাঁর খেলা একসময় বাঙালি দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। মাঠে তাঁর গতি, বল কন্ট্রোল এবং আক্রমণাত্মক খেলার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
বুধবার বিকেলে প্রার্থী ঘোষণার পরই জনসংযোগে নেমে পড়েন বিদেশ বোস। চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিস সংলগ্ন মাঠে ক্রিকেট খেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রথম বল মিস করলেও পরের বলেই ব্যাটে সংযোগ করেন তিনি। তাঁকে বল করেন বলাগড় কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধাড়া। এরপরই নিজের বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে প্রথম বলেই আউট করে দেন বিদেশ, যা উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এরপর মগড়া এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পদযাত্রা করেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। তাঁকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সপ্তগ্রাম কেন্দ্রে এবার প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। আগের প্রার্থী তপন দাশগুপ্তের নাম বাদ দিয়ে বিদেশ বোসকে সামনে আনা হয়েছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০১১ সালে অসীম কুমার মাঝি, ২০১৬ সালেও তিনি জয়ী হন। এরপর ২০২১ সালে মনোরঞ্জন ব্যাপারী জয়লাভ করেন তৃণমূলের হয়ে। তবে গত কয়েক বছরে দলের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার, যা প্রার্থী বদলের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রিয় প্রাক্তন ক্রীড়াবিদকে প্রার্থী করা ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে। এখন দেখার, মাঠের সেই পুরনো পারফরম্যান্স কি ভোটের ময়দানেও কাজে লাগে, নাকি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় বিদেশ বোসকে।
