
পৃথিবীর বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবার মহাকাশকেই কাজে লাগানোর অভিনব পরিকল্পনা সামনে আনল জাপান। জাপানের নির্মাণ সংস্থা Shimizu Corporation প্রস্তাব দিয়েছে ‘Luna Ring’ নামের এক যুগান্তকারী প্রকল্পের, যা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে পৃথিবীর শক্তি সংকট অনেকটাই মিটে যেতে পারে।এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, Moon-এর নিরক্ষরেখা বরাবর প্রায় ১১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল সৌর প্যানেলের বলয় তৈরি করা হবে। এই সৌর বলয়টি চাঁদের চারদিকে বিস্তৃত থাকবে এবং এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে সৌরশক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের আলো সরাসরি প্যানেলে পড়ে, ফলে পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হবে মাইক্রোওয়েভ এবং লেজার প্রযুক্তি। এই শক্তি পৃথিবীতে স্থাপিত বিশেষ রিসিভিং স্টেশনগুলিতে পৌঁছে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তরিত হবে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এই শক্তি সরবরাহ করা যাবে।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির উপর নির্ভর করা হবে। চাঁদের মাটি ও খনিজ ব্যবহার করেই সৌর প্যানেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পৃথিবী থেকে ভারী যন্ত্রপাতি বহনের খরচ কমানো যায়। এই পুরো প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এর কাজ শুরু করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই ‘লুনা রিং’ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি একটি পরিবেশবান্ধব এবং প্রায় অনিঃশেষ শক্তির উৎস হতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি, বিশ্বের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে এটি এক সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।যদিও এই পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়নের অনেক দূরে এবং প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের মহাকাশভিত্তিক শক্তি প্রকল্পই মানব সভ্যতার শক্তির চাহিদা পূরণে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
