
যক্ষ্মা বা টিবি রোগের চিকিৎসায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত। মঙ্গলবার দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ ক্লিনিক্যাল স্টাডি বা গবেষণার সূচনা করা হয়েছে, যেখানে আধুনিক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ মূল্যায়ন করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় দেশের আটটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৫০ জন নতুন যক্ষ্মা রোগীকে নথিভুক্ত করা হবে। গবেষণার মূল লক্ষ্য, আধুনিক ওষুধের পাশাপাশি আয়ুর্বেদ প্রয়োগ করলে রোগীর শরীরের ওজন, পুষ্টির মান, রোগের বিস্তার রোধ এবং জীবনযাত্রার মানে কতটা উন্নতি ঘটছে তা খতিয়ে দেখা। এছাড়া এই পদ্ধতি কতটা নিরাপদ ও রোগীদের শরীরের পক্ষে সহনশীল, তাও বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা হবে।
এই কর্মসূচির সূচনাকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, “সফল চিকিৎসার পরেও অনেক যক্ষ্মা রোগী দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া এবং শারীরিক অস্বস্তিতে ভোগেন। এই পরিস্থিতিতে রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সহায়ক থেরাপির প্রয়োজন রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের সমৃদ্ধ আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্য পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বে যক্ষ্মা আক্রান্তদের প্রায় ২৫ শতাংশ ভারতের। তবে আশার কথা হলো, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ভারতে যক্ষ্মার প্রকোপ প্রায় ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৮৭ জন।
ভারত সরকার ‘ন্যাশনাল টিবি এলিমিনেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে দ্রুত রোগ নির্ণয়, সার্বিক ড্রাগ টেস্টিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূলে বদ্ধপরিকর। ২০২২ সালের ২৫ মে আয়ুষ মন্ত্রক এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই এই নতুন আয়ুর্বেদিক ক্লিনিক্যাল স্টাডিটি শুরু করা হয়েছে।
